Ads

কুড়িগ্রামে উজানের ঢলে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে

 

তিস্তা নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রোববার সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামে
তিস্তা নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রোববার সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামেছবি: প্রথম আলো

কুড়িগ্রামে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ধরলা, গঙ্গাধর ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বাড়া অব্যাহত আছে।

আজ রোববার সকাল নয়টায় কুড়িগ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, ১২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি সমতলে ৩২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও ধরলা নদীর পানি তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ৬২ সেন্টিমিটার, দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে ২ দশমিক ৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াশাম, খিতাবখাঁ গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সরিষাবাড়ী ও মাঝেরচর, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়িরহাট বিভিন্ন গ্রামে তিস্তার ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। উজানের ঢলের প্রবল স্রোতে গতিয়াশাম কমিউনিটি ক্লিনিক, খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কালিরহাট এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের রামনিয়াশা, জুয়ানসতরার চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গো চারণভূমি ও ফসলের খেত তলিয়ে গেছে।

গতিয়াশাম গ্রামের কফিল উদ্দিন বলেন, ‘কয়েক দিন থেকে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের স্রোত শোঁ শোঁ করি ডাকে, ভয়ে কলিজা কাঁপি ওঠে।’ গতকাল বিকেলে গতিয়াশাম কমিউনিটি ক্লিনিক যাওয়ার রাস্তার কিছু অংশ ভেঙে গেছে। বসতবাড়ি থেকে গরু ছাগল ও পরিবারের লোকজন সরিয়ে নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন কফিল। যেকোনো সময় প্রবল স্রোতে রাস্তা ভেঙে চারটি বসতবাড়ি, কমিউনিটি ক্লিনিক ও ভাটিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রোববার সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামে
তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রোববার সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামে
ছবি: প্রথম আলো

কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বেড়েই চলেছে বলে জানালেন ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামের স্নাতকের শিক্ষার্থী তানজীম হাসান। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, উজানে তিস্তা ব্যারাজ অঞ্চলের সব কটি জলকপাট খুলে দেওয়ায় ভাটিতে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি পানি উঠে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর অববাহিকায় বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস প্রামাণিক বলেন, গতিয়াশাম কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকাসহ তিস্তার চরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে অন্তত পাঁচ শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গতকাল বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পানিবন্দীদের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, তিস্তার নদীভাঙন এলাকা গতকাল তিনি পরিদর্শন করেছেন। উজানের ঢলে বন্যার্ত পরিবারকে সহায়তা দিতে ত্রাণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গতিয়াশাম কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Ok, Go it!