Ads

।আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করা সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব

 

আবদুল আউয়াল মিন্টু
আবদুল আউয়ালইন্ট্রো–কয়েক বছর ধরেই অর্থনীতি চাপে রয়েছে। ডলার-সংকট ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে ব্যাংক খাত। এমন এক পরিস্থিতিতে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সরকার বদল হয়েছে। তাতে বিভিন্ন শিল্পকারখানায় হামলার পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। আবার নতুন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাস না পেরোতেই সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নরসিংদীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এ নিয়ে কথা বলেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু। মিন্টুফাইল ছবিসার্বিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনা সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনা না গেলে দেশের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভের যেসব ঘটনা ঘটছে, তা দিন দিন আরও বাড়বে। সরকার কেন এ বিষয়ের সুরাহা করতে পারছে না বা কেন বিলম্ব করছে, তা আমার জানা নেই। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতে বেশির ভাগ ব্যাংকই কোনো কোনো সমস্যায় জর্জরিত। এ অবস্থায় ব্যাংকিং খাতকে যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা না করে, তাহলে অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের যথাযথ সেবা দিতে পারবে না। সেবা দিতে না পারলে শিল্পমালিকেরা তাঁদের কর্মীদের বেতন-ভাতাও পরিশোধ করতে পারবেন না। এমনকি আমদানি ঋণপত্রও খুলতে পারবেন না।

ব্যাংকগুলো যদি ঠিকমতো আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খুলতে না পারে, সে ক্ষেত্রে কাঁচামালের অভাব দেখা দিতে পারে। কাঁচামালের অভাব দেখা দিলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। তাতে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারের জন্য নিত্যপণ্যের উৎপাদনও ব্যাহত হতে পারে। সেটি হলে পণ্যের ঘাটতি দেখা দেবে। পণ্যের ঘাটতি দেখা দিলে তাতে পণ্যের দাম বাড়বে। তাতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ব্যাংকিং খাত যদি ঠিক করা না হয় এবং ব্যাংক যদি গ্রাহকদের ঠিকমতো সেবা দিতে না পারে, তাহলে অর্থনীতির অবস্থা আরও খারাপ হবে।

একদিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা খারাপ। এ অবস্থা থেকে আমাদের মুক্ত হতে হলে ব্যাংক খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। এ ছাড়া ব্যাংকের সঙ্গে বিনিয়োগের বিষয়টি সরাসরি জড়িত। ব্যাংক অর্থায়ন ছাড়া বিনিয়োগ হবে না। আর বিনিয়োগ না হলে নতুন কর্মসংস্থানও হবে না। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে না পারলে বেকারত্ব বাড়বে। তাতে সমাজে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। আবার বেকার জনগোষ্ঠী আন্দোলনে নামবে। একদিকে শ্রমিক আন্দোলন, অন্যদিকে বেকারদের আন্দোলন শুরু হবে। তাই এসব বিষয় সরকারের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।

অর্থনীতি সচল রাখতে ও দেশে শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারকে এ মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে হবে। সরকার যদি যথাযথ সহযোগিতা না করে, তাহলে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির অবস্থা ভালো হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।

ব্যাংক খাতে যেসব অনিয়ম হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ বিচার করতে হবে। তবে বিচারের এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। অনিয়মের বিচার করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ও ব্যাংকের নিরীক্ষা করতে হবে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় চিহ্নিত করতে হবে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের। তারপর গ্রাহকের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। এ মুহূর্তে আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের ব্যাংক লেনদেন যেকোনো উপায়ে সচল ও চালু রাখা জরুরি।

আমি মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে। পাশাপাশি দরকার ব্যাংক খাতকে কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। আমানতকারী ও ব্যবসায়ীরা যাতে ব্যাংকের মাধ্যমে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, সেটাও নিশ্চিত করা জরুরি। এসব কাজ অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার। এরপর ব্যাংকগুলো নিজেরাই গত ১৫ বছরে অনিয়মের সঙ্গে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে পারবে।

লেখক–আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাবেক সভাপতি,এফবিসিসিআই

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Ok, Go it!