Ads

এবার হোমসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন সিরিয়ার বিদ্রোহীরা

 

হামার দখল নেওয়ার পর সড়কে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা। তাঁরা এবার হোমস দখলের পথে। ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪
হামার দখল নেওয়ার পর সড়কে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা। তাঁরা এবার হোমস দখলের পথে। ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ছবি: রয়টার্স

মধ্যাঞ্চলের নগর হোমসের দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার কথা জানিয়েছেন সিরিয়ার বিদ্রোহীরা। যদি তাঁরা হোমসের দখল নিতে পারেন, তবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নগরের নিয়ন্ত্রণ হারাবেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ।

বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দেওয়া দল ‘হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)’ টেলিগ্রামে এক পোস্টে বলেছে, ‘আমাদের বাহিনী হোমস নগরের বাইরের সর্বশেষ গ্রামটি মুক্ত করে ফেলেছে এবং আমরা এখন নগরের দ্বারপ্রান্তে।’

এইচটিএস একসময় আল-কায়দার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। এই দলের নেতৃত্বেই এবার সিরিয়ায় আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছেন বিদ্রোহীরা। এইচটিএস হোমসের দখলে থাকা আসাদের অনুগত সেনাদের পক্ষ পরিবর্তন করার আহ্বানও জানিয়েছে।

এদিকে বিদ্রোহীদের কয়েকটি সূত্র আজ শনিবার ভোরে বলেছে, তারা জর্ডান সীমান্তবর্তী দক্ষিণের শহর ধারা দখল করে নিয়েছে। ধারার সরকারি বাহিনীকে নিরাপদে রাজধানী দামেস্কে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে বিদ্রোহীদের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার পর সিরিয়ার সেনাবাহিনী সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

রয়টার্স স্বাধীনভাবে বিদ্রোহী সূত্রের এ দাবি যাচাই করতে পারেনি।

সুন্নি বিদ্রোহীরা এখন যদি হোমস দখল করে নিতে পারেন, তবে সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী দামেস্কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারবেন তাঁরা।

সিরিয়ার সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল সংখ্যালঘু আলাউতি সম্প্রদায়ের শক্ত ঘাঁটি। প্রেসিডেন্ট আসাদ আলাউতি সম্প্রদায়ের। সেখানে তাঁর মিত্র রাশিয়ার একটি নৌঘাঁটি ও একটি বিমানঘাঁটি রয়েছে।

সিরীয় সেনাবাহিনীর একটি সূত্র বলেছে, হোমসের উত্তর দিক দিয়ে যদি বিদ্রোহীরা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাঁদের ইরান–সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী হিজবুল্লাহর মুখোমুখি হতে হবে। আসাদ বাহিনীর পক্ষে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নিতে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা সেখানে অবস্থান করছেন।

সিরীয় যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ বলেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে হাজার হাজার মানুষ হোমস থেকে ভূমধ্যসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চল লাতাকিয়া এবং তারতুসে পালিয়ে যেতে শুরু করেছে। লাতাকিয়া ও তারতুস বাশার বাহিনীর শক্ত ঘাঁটি।

সিরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নিজেদের ও রাশিয়ার বিমানবাহিনীর সহায়তায় সিরিয়ার সেনাবাহিনী হোমসের গ্রামাঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে। একটি সেনা সূত্রের বরাত দিয়ে সেখানে বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হওয়ার খবর দেওয়া হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত সিরিয়ান কুর্দিস ফাইটারদের নেতৃত্বে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের আরেকটি দল গতকাল শুক্রবার আসাদ বাহিনীকে হটিয়ে দেইর এল-জুরের দখল নিয়েছে বলে তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।

সিরিয়ার পূর্বের বিস্তৃত মরু অঞ্চলে আসাদ বাহিনীর প্রধান ঘাঁটি ছিল এটি। আসাদ বাহিনীর জন্য যা বড় এক ধাক্কা। এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের উত্তর–পশ্চিম এবং মধ্যাঞ্চলে আলেপ্পো ও হামার পর তৃতীয় এই বৃহৎ নগরীর দখল নিয়ে নিলেন বিদ্রোহীরা।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Ok, Go it!